ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প

রাজউকের প্লটে লুটপাটের মহোৎসব

  • আপলোড সময় : ১৬-০১-২০২৫ ০১:২৯:৫৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০১-২০২৫ ০১:২৯:৫৮ অপরাহ্ন
রাজউকের প্লটে লুটপাটের মহোৎসব
* তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে লোপাট হয়েছে হাজার কোটি, প্লটের ডাটাবেজ তৈরি করছে না কমিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প আবাসিক এলাকার জমি অধিগ্রহণ থেকে প্লট বরাদ্দের প্রতিটি ক্ষেত্রে চলেছে লুটপাট আর অনিয়মের মহোৎসব। সরকার পরিবর্তনের পর খোদ রাজউক থেকে প্লটের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজের লক্ষ্যে খালি, অবরাদ্দ করা মোট প্লটের বরাদ্দ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হলেও প্রকল্প পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-দুই) মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদার এ বিষয়ে রহৎসজনক ভূমিকা পালন করছেন। এই প্রকল্পের প্লট হাতিয়ে নিতে রাজউক, গণপূর্তের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী আমলারা এই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। প্লট হাতিয়ে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদ্যবিদায়ী কমিশনার মো. জহুরুল হক ও তার স্ত্রী মাসুমা বেগম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজউক সবচেয়ে বড় এই আবাসিক প্রকল্প উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৩১১ কোটি টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮২ কোটি টাকায়। এ প্রকল্পে শত শত কোটি টাকা লোপাট হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মাটি ভরাটের নামে অর্থ আত্মসাৎ, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে মালামাল ক্রয়, ওয়াটার সাপ্লাই কাজে অতিরিক্ত ব্যয় করা এবং সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের নামে অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এ ছাড়া লে-আউট পরিবর্তন করে সাবেক প্রধান প্রকৌশলীসহ কয়েকজনকে প্লট বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। শুধু পূর্বাচল প্রকল্পের দুর্নীতির নয়, সংস্থাটির উত্তরা আবাসিক ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের উন্নয়নের নামে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ, নথি গায়েবসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সংস্থাটির ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ইমারতের নকশা অনুমোদন, ফ্ল্যাট-প্লটের নামজারি, অকোপেনসি সনদসহ সব ধরনের কাজেই সেবাগ্রহীতাদের ঘুষ হিসেবে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। সেবাগ্রহীতার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এর সঙ্গে রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। দুদকের একাধিক টিম এসব অভিযোগের অনুসন্ধান-তদন্ত করছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এ সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে রাজউক, সিটি করপোরেশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভূমি অফিস ও ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছে দুদক। আরো জানা গেছে, স্বর্ণ চোরাচালান করে রাতারাতি শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ৪১টি প্লট দখল করেছেন। এসব প্লটের বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। গত বছরের জানুয়ারি মাসে গোল্ডেন মনির রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ৪১টি প্লট তার ও স্ত্রীর দখলে রাখাসহ আরও কয়েকটি প্লট হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, গোল্ডেন মনির, তার স্ত্রীর নামে এখন পর্যন্ত ৩১টি প্লটের মালিকানা অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। সব প্লট রাজউকের বাড্ডা পুনর্বাসন আবাসিক প্রকল্পের প্লট। এর বাইরে রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্প, বারিধারা আবাসিক প্রকল্প ও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে কোনো প্লট আছে কি না তার অনুসন্ধান চলমান। অপরদিকে প্রকল্পে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে রাজউকের ১৬ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযুক্ত ১৬ জনকে গত ১২ এপ্রিল দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তারা হলেন- অফিস সহকারী জাফর সাদিক, উত্তরা জোনের তত্ত্বাবধায়ক এম এ বায়েজিদ খান, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর আবদুল মোমিন, নকশাকার এমদাদ আলী, সার্ভেয়ার মাসুম বিল্লাহ, সুপারভাইজর খালেদ মোশাররফ তালুকদার রুবেল, বেঞ্চ সহকারী বাসার শরীফ, নিম্নমান সহকারী ইউসুফ মিয়া, অফিস সহকারী বেলাল হোসেন চৌধুরী, নকশাকার শহীদুল্লাহ বাবু, কনিষ্ঠ হিসাব সহকারী মোহাম্মদ হাসান, নকশাকার শেখ ফরিদ ও রেকর্ডকিপার মো. ফিরোজ। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর উত্তরা এলাকার চার কাঠা আয়তনের একটি, ১০ কাঠা আয়তনের ৯টি এবং ২০ কাঠার ১৩টিসহ মোট ২৩টি প্লট নিলামে বিক্রি করে রাজউক। এর মধ্যে ১০ কাঠা আয়তনের পাঁচটি এবং ২০ কাঠা আয়তনের ছয়টিসহ মোট ১১টি প্লট বিক্রি করা হয় একক দরে। তথ্য বলছে, উত্তরা এলাকার ২৩টি বাণিজ্যিক প্লট প্রায় এক হাজার কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ১২টি (একটির চার কাঠা, ছয়টি ১০ কাঠা ও ছয়টি ২০ কাঠা আয়তন) প্লট প্রতিযোগিতামূলক দরে বিক্রি হয় ৫৭২ কোটি ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ২০ টাকায়। আর ১১টি (৫টি ১০ কাঠা ও ৬টি ২০ কাঠা আয়তন) প্লট একক দরে ৪০৩ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ২১০ টাকায় বিক্রি করা হয়। একক দরের প্লটগুলো গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে বিক্রি করেন রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তা। এতে সরকারের ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হলেও তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদিকে হাইকোর্টের একটি সুয়োমটো রুল আদেশের ভিত্তিতে রাজউকের সার্ভার থেকে ৩০ হাজার নথি গায়েব হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০২২ সালের ছয় ডিসেম্বর রাজউকের সার্ভার হ্যাকড হয় এবং ২১ ডিসেম্বর সার্ভার উদ্ধার করা হয়। সার্ভার উদ্ধার করে দেখা যায়, তাতে কোনো নথি নেই। সার্ভারে ২০১৯ সালের মে মাস থেকে গত বছরের ছয় ডিসেম্বর পর্যন্ত নগর পরিকল্পনা শাখার প্রায় ৮ হাজার ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের আবেদন ও ইমারত নির্মাণ শাখার নকশা অনুমোদন সংক্রান্ত ২২ হাজারসহ মোট ৩০ হাজার নথি ছিল, যা গায়েব হয়ে যায়। নথিপত্র গায়েব হওয়ার ঘটনা সাধারণ কোনো ঘটনা মনে হয় না। এটি একটি সাবোট্যাজ হতে পারে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতি, প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন উপশহর এলাকায় বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে শেরপুর জেলার নকলা থানার চিথলিয়া গ্রামের মো. আব্দুল জলিল আকন্দের স্ত্রী মোসা. জাহানারা বেগমকে গাজীপুরের আদিবাসী কোটায় তিন কাঠার প্লট বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগে প্লট গ্রহীতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। অপরদিকে, রাজউকের সমিতি ও কল্যাণ ট্রাস্টকে এক হাজার কোটি টাকার জমি বরাদ্দ প্রদানের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এ ছাড়া সংসদ সদস্য সালাম মুর্শিদীকে বাড়ি দখলের সুযোগ প্রদান, ঘুষ-দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অথরাইজড অফিসার পলাশ সিকদার, নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মো. ওবায়দুল্লাহসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসে। নথিপত্রের তথ্য বলছে, দুদক কমিশনার (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার প্রায় দেড় বছর ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট মো. জহুরুল হক তার নিজের নামে বরাদ্দ দেয়া পাঁচ কাঠার প্লটের পরিবর্তে ১০ কাঠা আয়তনের প্লট দিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের তিন নভেম্বর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে রাজউক চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে জহিরুল হকের পাঁচ কাঠা ও তার স্ত্রী মাছুদা বেগমের নামে থাকা পাঁচ কাঠার প্লট দু’টি সমর্পণ সাপেক্ষে একটি ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেয়ার জন্য বলা হয়। এরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এ-সংক্রান্ত নথি ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রাজউকের ১৪তম বোর্ডসভায় উপস্থাপন করা হয়। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে সভায় জহুরুল হককে রাজউকের পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে ১০ কাঠা আয়তনের একটি করে প্লট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শাখাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। রাজউকের পূর্বাচল শাখার একজন কর্মকর্তা বলেছেন, রাজউকের বোর্ডসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুদক কমিশনার জহুরুল হককে ১৩/এ ধারায় ২৫ নম্বর সেক্টরের ২০৬ নম্বর সড়কের ১০ কাঠা আয়তনের ৪৭ নম্বর প্লটটি বুঝিয়ে দেয়া হয়। সেখানে তিনি বাড়ি নির্মাণে নকশার অনুমোদন নিয়েছেন। তবে কত তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তা রাজউকের জোন-৪/১ অথরাউজড অফিসার বলতে পারবেন। পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী ২০০২ সালে যখন প্রকল্পের প্লট বরাদ্দের আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়, তখন স্বামী-স্ত্রীর আবেদনের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না। এ কারণে বিপুলসংখ্যক স্বামী-স্ত্রী আবেদন করেছেন। পরে ২০০৯ সালে পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নীতিমালা পরিবর্তন আনা হয়। তখন নীতিমালার ১৩(১) ধারায় বলা হয়, বৃহত্তর ঢাকা মহানগরীর রাজউকের আওতাধীন এলাকার কোথাও পূর্বতন ডিআইটি বর্তমানে রাজউকের প্রকল্পের প্লটের জন্য আবেদনকারী স্বামী, স্ত্রী, পরিবার ও পোষ্যর নামে কোনো আবাসিক জমি, বাড়ি বরাদ্দ বা লিজ দেয়া হলে এবং উত্তরাধিকার বা ক্রয়সূত্রে জমি, বাড়ির মালিক হলে তিনি আলোচ্য প্রকল্পে প্লট পাওয়ার যোগ্য হবেন না। এই নীতিমালা প্রণয়নের আগে যেসব স্বামী ও স্ত্রীর নামে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তাদের প্রথমজনের প্লট বরাদ্দ বহাল রেখে পরের জনের প্লট সমর্পণ করতে রাজউক থেকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশনার পর যেসব স্বামী ও স্ত্রী আলাদা আলাদা প্লট পেয়েছেন, তাদের প্লট সমর্পণ করতে ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। পরে অনেক দম্পতি তাদের একজনের নামের প্লট বহাল রেখে আরেকজনের প্লট সমর্পণ করে টাকা ফেরত নেন। আবার রাজউক যেসব স্বামী-স্ত্রীর নামে প্লট বরাদ্দের বিষয়ে জানতে পেরেছে, তাদের একটি বহাল রেখে আরেকটি বাতিল করেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প আবাসিক এলাকার প্লটের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজের লক্ষ্যে খালি, অবরাদ্দ করা মোট প্লটের বরাদ্দ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করছে রাজউক। সে লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা গত বছরের ২৯ আগস্ট রাজউক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর কয়েকদিন আগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মমিন উদ্দিন একটি অফিস আদেশ জারি করে কার্যক্রমটি পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় বলা হয়, গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে খালি, অবরাদ্দকৃত প্লটের তথ্যসহ মোট প্লটের বরাদ্দ সংক্রান্ত প্রতিবেদন রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করতে হবে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-দুই) মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদারকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-তিন) হাবিবুর রহমানকে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-তিন) নায়েব আলী শরীফ, উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-তিন) মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং রাজউকের সহকারী প্রোগ্রামার ফিরোজ মাহমুদ। আহ্বায়ক করা হয়েছে রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-দুই) মোহাম্মদ মনির হোসেন হাওলাদারের সাথে গতকাল বুধবার দুপুরে প্লটের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজের বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইজ করা হয়নি। এ বিষয়ে এখনো কাজ চলছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স